আমাদের চারপাশে কত হাজারো রূপকথা ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু আজ এমন এক গল্পের কথা বলব, যা কোনো কল্পকাহিনী নয়, একদম নিখাদ বাস্তব অভিজ্ঞতা।
মাত্র সাড়ে চার বছর বয়স! যে বয়সে অন্য দশটা শিশু মোবাইল স্ক্রিনে চঞ্চল চোখে কার্টুন দেখে কিংবা কোনো খেলনার ছোঁয়ায় নিজেকে হারিয়ে ফেলে, সেই বয়সেই ছোট্ট আহমাদ হিফয করে ফেলেছিল পুরো আল-কুরআন। আর আজ, মাত্র ছয় বছর বয়সে এসে সে মুখস্ত করে ফেলেছে হাদিসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলন 'মুখতাসার বুখারি'!
বারাকাল্লাহু লাক!
কিন্তু আপনি কি জানেন, এই অসাধ্য সাধন করার পেছনে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম কোন অ্যাকাডেমি কাজ করেছে?
কোনো বিশাল বোর্ডিং মাদ্রাসা নয়, কোনো মানসম্মত রাজকীয় প্রতিষ্ঠানও নয়। সে প্রতিষ্ঠানটির নাম—"মা"।
হ্যাঁ, ওর গর্ভধারিনী মা নিজেই তাকে কোরআনে কারীম হিফজ করিয়েছেন। নিজের হাতে পরম মমতায় পড়িয়ে শেষ করিয়েছেন মুখতাসার বুখারি।
সম্মানিত অভিভাবক, এই কথাগুলো কোনো উবে যাওয়া গল্প নয়। তার হিফজ শেষ হওয়ার পর একদিন শ্রদ্ধেয় ভাইয়ের (আহমাদের বাবা) সাথে যখন কথা হয়েছিল, তখন বুকের ভেতরে এক অদ্ভুত শিহরণ অনুভব করেছিলাম আর বুঝলাম এটা অবশ্যই সম্ভব ইন শা আল্লাহ।
আজকের ডিজিটাল দুনিয়ার দিকে তাকালে বুক ফেটে দীর্ঘশ্বাস বের হয়। যে সময়টা সন্তানকে গড়ার কথা, যে ছায়াটায় তারা এক একটা বটবৃক্ষ হয়ে ওঠার কথা, সেই সময়গুলো আজ আমরা বিলিয়ে দিচ্ছি অনর্থক ভার্চুয়াল দুনিয়ায়।
বিশেষ করে সম্মানিত মায়েদের কাছে আমার এক বিনম্র মিনতি:
🌷 কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মোহে পড়বেন না: নিজের সন্তানকে নিয়ে ‘ডেইলি ব্লগ’ বানানো, জীবনযাত্রার প্রতিটা মুহূর্ত ক্যামেরা বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝুলিয়ে দেওয়া, এগুলো আপনাকে সাময়িক লাইক-কমেন্ট দিতে পারে, কিন্তু কেড়ে নিচ্ছে আপনার সন্তানের একটি সোনালী ভবিষ্যৎ।
🌷 মানসিক অস্থিরতার চক্র: আপনি যখনই আপনার জীবনের প্রতিটা ব্যক্তিগত গল্প স্ক্রিনের পর্দায় তুলে ধরবেন, মানুষের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য আপনাকে ভেতর থেকে বিষিয়ে তুলবে। আপনি না চাইতেও সেই ভার্চুয়াল দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বেন এবং সময়টা বালির মতো হাত গলে বেরিয়ে যাবে।
🌷 ভার্চুয়াল পরিচিতি নয়, বাস্তব প্রভাব বড়: দিনশেষে স্ক্রিনের লাইক দিয়ে কোনো সন্তান মানুষ হয় না। সন্তান মানুষ হয় মায়ের গভীর রাত জাগা ব্যাকুলতায়, নিরবচ্ছিন্ন ভালোবাসায় আর মনোযোগের সুনিবিড় ছোঁয়ায়।
প্লিজ, এই স্ক্রিনের বন্দিশালা থেকে নিজেকে আর নিজের পরিবারকে মুক্ত করুন। কনটেন্টের আলো ঝলমলে দুনিয়ায় নিজেকে হারিয়ে যেতে দিবেন না।
যে মা নিজের সন্তানকে সোশ্যাল মিডিয়ার কোলাহল থেকে সরিয়ে একান্তে বুফেতে বসিয়ে কোরআন-হাদিসের নূর শেখাতে পারেন, দিনশেষে তিনিই তো জয়ী। আপনি যদি আজ আপনার সময়টাকে অপচয় না করে সন্তানকে দেন, তবে আপনার কোল থেকেই গড়ে উঠবে নতুন কোনো হাফেজ আহমাদ, নতুন কোনো ইমাম বুখারি কিংবা ইবনে তাইমিয়াহ।
মনে রাখবেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং প্রভাব বিস্তারকারী বিদ্যাপীঠ হচ্ছে একজন আদর্শ মায়ের কোল। নিজেকে সেই আদর্শ হিসেবে তৈরি করার দায়িত্বটা কেবল আপনারই!
বি:দ্র: এখানে বলবেন না, তাহলে বাবাদের কি কোন দায়িত্ব নেই? অবশ্যই আছে। অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে। সেগুলোও তো সবসময়ই আলোচনায় আনছি।